এক কেজি ওজনের স্বর্ণের বার আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিউচার মার্কেটে গতকাল দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছায়। যদিও পরে বাজার কিছুটা সংশোধন হয়ে আসে। তবে এ সময় স্পট মার্কেটে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল মূল্যবান ধাতুটির দাম। খবর রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাজারে স্বর্ণের দামের এ উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে শুল্কসংক্রান্ত অস্থিরতা। এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর প্রত্যাশাও মূল্যবান ধাতুটির দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৪৯৯ ডলার ৩০ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৩৪ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩৯৪ ডলার ৩৬ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল। দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম ২৩ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।
এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বৃহস্পতিবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এক কেজি স্বর্ণের বার আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এছাড়া গত ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের স্বর্ণবার উচ্চ শুল্কযুক্ত কাস্টমস কোডের আওতায় পড়বে। এরপর নিউইয়র্কের ফিউচার ও স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দামের ব্যবধান ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, ‘শুল্ক আরোপের কারণে ব্যাংকগুলোর জন্য বড় অংকের স্বর্ণ লেনদেন দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এটিই স্বর্ণের মূল্যে বড় প্রভাব ফেলেছে। সর্বত্রই তা একযোগে বেড়েছে।’
পাশাপাশি গত সপ্তাহের দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, আগামী মাসে ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ।
অন্যদিকে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৩৮ ডলার ১৫ সেন্টে নেমে আসে। এ সময় প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। আউন্সপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩২ ডলার ৫৯ সেন্টে। প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১৪৮ ডলার ৭৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে স্বর্ণের মূল্য নিয়ে দেয়া পূর্বাভাস সংশোধন করেছে সিটি গ্রুপ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যাংকটি জানায়, আগামী তিন মাসে স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারে। এর আগে দেয়া প্রাক্কলনে যা ছিল আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ ডলার।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত দুর্বল পূর্বাভাসের কারণে স্বর্ণের দাম নিয়ে দেয়া প্রাক্কলন সংশোধন করা হয়েছে।
সিটি গ্রুপ বলছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ও শুল্ক-সম্পর্কিত মূল্যস্ফীতি উচ্চ মাত্রায় থাকবে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।